লকডাউনে রমণীদের ঈদ রান্না : আড্ডা আধারে নীলাভ চিল

  • 62
    Shares

শবনম মুস্তারী মমি:

এবারের ঈদটাই বিচিত্র এবং একেবারেই ভিন্ন অভিজ্ঞতা! বললেন স্কুলশিক্ষিকা সাবিনা! করোনা পরিস্থিতি ও দুর্যোগরোধে সামাজিক দূরত্ব এবং স্বাস্থ্যবিধি ছিল এই ঈদের মূল মেসেজ। নানা সীমাবদ্ধতার মধ্যে থেকেও উপাদেয় খাবার রান্নায় চেষ্টার ত্রুটি ছিল না অনেকেরই। মসজিদে বারংবার ঘোষিত ঈদের জামাতে  স্বাস্থ্যবিধি পালনের বিষয়টি ঘরনীদের মনেও সতর্কতায় নাড়া দিয়েছে একইভাবে। ফলে স্বাস্থ্যবিধি মাথায় রেখেই করা হয়েছে সকল ঘরোয়া কাজ-কর্ম।
শবনম মুস্তারী মমি। ফাইল ছবি

রান্নাবান্নাতেও এবার যোগ হয়েছিল ভিন্ন মাত্রা। রুচি ও চাহিদাতেও এ ঈদ ছিলো আলাদা রুপে । আত্মীয়দের আগমনের সম্ভাবনা না থাকলেও বাজারে পাওয়া মজাদার আইটেম যোগ করতে হয়েছে রেসিপি হাতড়ে,
ইউটিউবে রান্নার বিভিন্ন রেসিপি নিয়ে আধুনিক মনা রমনীরা ছিলো মহাব্যাস্ত। কেউ কেউ লকডাউন কিংবা রমজান শুরুর দিক থেকেই আইটেম আয়োজন করে ফেসবুকে কুড়িয়েছেন কমেন্টস লাইক ও শেয়ারের  ক্রেডিট!

যথারীতি ঘরোয়া খাবার তৈরী হলেও বাচ্চাদের পছন্দই গুরুত্ব পেয়েছে বেশী ।। নিত্যনতুন আলেচনায় আসা খাবার তৈরীর সুযোগ নিয়ে হাতেখড়ি নিয়েছিলেন অনেকেই। হোক না সেটা ঠিক কিংবা ভুল।

যাই হউক স্বাদ নিয়ে চোখ আড়াল করে সুস্বাদুর কীর্তন করতে হয়েছে বাড়ীর গৃহকর্তা কিংবা মায়েদের। এবার হাতে তৈরী মিস্টি চমচম ছিলো এরকম আলচনায়। প্রয়োজনীয় ফোনালাপের সাতথ সাথে কলিগদের গল্পের ফাঁকে প্রায়শই স্থান পেয়েছে এরুপ নানা আয়োজন উদ্ভাবনীর বিচিত্র খাবার!!

চাউমিন, পুডিং নুডলস, লাচ্চি কিবা হালিম যেগুলো সচরাচর ফাস্টফুডের দোকানে খেতো, এবার লকডাউনের লম্বা বন্ধে সে আকাঙ্ক্ষা এসে পড়েছে নিজেদের রান্নার আয়োজনে ব্যাস্ত তাদের উপর ।
পোষাকী বাহারী বাহুল্য প্রদর্শন এবার দেখা যায়নি। এবার বিকাল কিংবা সন্ধ্যায় বাইরে ঘুরাঘুরি, আড্ডা ঈদ উৎসবের চিরায়ত অভ্যাসের মোড় নিয়েছিলো ভিন্নরুপে।

আর সেটি হলো নিজ ড্রয়িংরুম পেরিয়ে ছাদে, আকাশছাদে নানা ভঙ্গীমায় সেল্ফি কিংবা ছোটছোট গ্রুপ পিক উঠেছে হরহামেশায়। নদী কিংবা বিনোদন স্পটের পরিবর্তে এ সকল ক্যাপচারড শেয়ারিং-এ এনড্রয়েড ফোনগুলো হয়েছে নানা ঢঙ্গে পরিপূর্ণ ।।

মুক্তবাতাসের স্বাদ নিতে অধিকাংশ ছাদেই বাচ্চাদের সাথে বাড়ীর মুরুব্বীরাও সঙ্গ দিয়েছেন, এমনকি ছাদে গলা ছেড়ে গানের গলাও মিলিয়েচেন। নিম্নচাপের জোরালো বাতাসের শব্দকে ছাপিয়ে আধারী ছাদ আঙ্গিনাকে মোহনীয় করার চেষ্টায় জোকস আড্ডা খুনশুটিতে মেতেছেন অনেকই। এমন একটি পরিবারের সাথে কথা হলো বললো নানান গপ্পকথা।

ফোনালাপেই আড্ডাতে সবাই। এবার নিজ নিজ ছাদে বসার আড্ডার আয়োজন করেছিলো অনেকেই। এ ফুরসৎ এর সুবাদে রংবেরং ঘুড়ি ওড়ানোতেও যোগ হয়েছিলো নানাবয়সী মানুস, মেয়েরাও আকাশে লালনীল সাদা রংবেরং এ দৃশ্য উপভোগ করেছে সমানতালে। আকাশে আধার রাতেও আলো জালানো রঙিন চিল আকৃতির ঘুড়ি উড়তে দেখা গেছে। বাতাসের তীব্রতায় শহর ও শহরতলীর মুক্ত আকাশে বড় ছোট লালনীল ডিজিটালীয় আলোক শোভিত ভৌতিক পাখিদের ন্যায় চিলাকৃতির ঘুড়ির নীলাভ রুপ নজর কেড়েছিলো অনেকেরই।

লেখক: ব্যবস্থাপনা পরিচালক, মমতা নার্সিং ইনস্টিটিউট, রাজশাহী। 

এএইচএস.


  • 62
    Shares