রুয়েটের ‘দুর্বার কান্ডারী’ তৈরী করলো ‘ইমার্জেন্সী ভেন্টিলেটর’

  • 384
    Shares

নিজস্ব প্রতিবেদক:

করোনার এই মহামারীতে সারাদেশে যখন ভেন্টিলেটরের তীব্র সংকট ঠিক সেই সময়ে ভেন্টিলেটর সংকট সমস্যার সমাধানের লক্ষ্যে রাজশাহী প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় (রুয়েট) উদ্ভাভন করলো ‘ইমার্জেন্সী ভেন্টিলেটর’। বিশ্ববিদ্যালয়টির ইলেকট্রিক্যাল এন্ড ইলেকট্রনিক ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের অধ্যাপক ড. মো. মাসুদ রানার তত্ত্বাবধানে রুয়েটের একদল শিক্ষার্থীর সমন্বয়ে গঠিত ‘দুর্বার কান্ডারী’ নামের এই টীম প্রায় দুই মাসেরও অধিক সময় পরিশ্রম করে ‘দুর্বার কান্ডারী ইমার্জেন্সী ভেন্টিলেটর’ তৈরী করেন।
ইমার্জেন্সি ভেন্টিলেটরটি কীভাবে ব্যবহার করতে হয় তা দেখানো হচ্ছে

মঙ্গলবার (১৪ জুলাই) দুপুরে রুয়েটের ইলেকট্রিক্যাল এন্ড ইলেকট্রনিক ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের সভাকক্ষে অনুষ্ঠিত এক সংবাদ সম্মেলনে এই তথ্য নিশ্চিত করা হয়। সংবাদ সম্মেলনে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন- রুয়েটে র উপচার্য অধ্যাপক ড. মো. রফিকুল ইসলাম সেখ।

সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয় ‘দুর্বার কান্ডারী ইমার্জেন্সী ভেন্টিলেটর’ যা অত্যন্ত কম খরচে দেশীয় প্রযুক্তিতে তৈরী এবং যা পরিচালনা করাও অত্যন্ত সহজ এবং নিরাপদ। এই ভেন্টিলেটরটি বিশ্বের সনামধন্য বিশ্ববিদ্যালয় MIT কর্তৃক করোনাকালে প্রস্তুতকৃত ইমার্জেন্সী ভেন্টিলেটর -এর মডেল অনুসরণ করে সম্পূর্ণ নতুন আঙ্গিকে প্রস্তুত করা হয়েছে।’

সংবাদ সম্মেললে আরও জানানো হয়, মূলত ইন্টারনেটের সাহায্যে এই ভেন্টিলেটরটি চলবে। মোবাইল ফোনের ব্লুটুথকে সক্রিয় করে ভেন্টিলেটরের জন্য তৈরীকৃত অ্যাপটি চালু করলেই ভেন্টিলেটরের সাথে ব্যবহারকারীর মোবাইলের সংযোগ স্থাপিত হবে এবং ব্যবহারী তার মোবাইলের মাধ্যমে যন্ত্রটি নিয়ন্ত্রণ করতে পারবেন। মোবাইল অ্যাপে গিয়ে ব্যবহারকারী নিজের প্রয়োজনমত BPM, Tidal Volume ,PEEP ইত্যাদির মান সেট করতে পারবেন। মান সেট করা সম্পন্ন হলে যন্ত্রটি একটি কনফার্মেশন ম্যাসেজ ব্যবহারকারীকে পাঠাবে এবং ‘১’ বাটন ও ‘স্টার্ট’ বাটন প্রেস করার সাথে সাথে যন্ত্রটি নিদের্শনা অনুযায়ী কাজ করা শুরু করবে।

সংবাদ সম্মেলনে আরও জানানো হয়, এর সাহায্যে এক সাথে অনেক রোগীকে পর্যবেক্ষণে রাখার জন্য ইন্টারনেট সংযোগের মাধ্যমে ওয়েব অ্যাপ দ্বারা কয়েকটি ভেন্টিলেটরের একত্রে তথ্যপ্রাপ্তি ও পর্যবেক্ষণ সম্ভব। এক্ষেত্রে চিকিৎসক ইন্টারনেটের মাধ্যমে ভেন্টিলেটরের সাথে সংযোগ স্থাপন করতে পারবেন। এই ওয়েব অ্যাপের মাধ্যমে দেশের যেকোনো প্রান্ত থেকে বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক রোগীকে দেখাশোনা এবং প্রয়োজনীয় পরামর্শ দিতে পারবেন। ফলে প্রত্যন্ত অঞ্চলের রোগীরাও বিশেষজ্ঞ ডাক্তারের পরামর্শ লাভের সুযোগ পাবেন। এয়াড়া ওয়েব অ্যাপের নির্দিষ্ট ডাটাবেজ থাকবে যেখানে রোগীর পূর্বের তথ্যাবলীসহ সমস্ত তথ্য জমা থাকবে। যার ফলে চিকিৎসকের পক্ষে রোগীর অবস্থা বুঝে চিকিৎসা দেয়া সহজ হবে।

সংবাদ সম্মেলনে রুয়েট উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. রফিকুল ইসলাম সেখ বলেন, “দুর্বার কান্ডারী ইমার্জেন্সী ভেন্টিলেটর’ এর মাধ্যমে বাংলাদেশের ভেন্টিলেটর সংকট সমস্যার সমাধান হবে-এটাই আমাদের প্রত্যাশা।”

‘দুর্বার কান্ডারীর’র তত্ত্বাবধায়ক এবং প্রকল্প পরিচালক অধ্যাপক ড. মো. মাসুদ রানা বলেন, “এই ভেন্টিলেটরটি মাত্র ৩০-৩৫ হাজার টাকা ব্যয়ে প্রস্তুত করা সম্ভব। কেননা- দেশীয় প্রযুক্তি ব্যবহার করে এবং কেবল করোনা আক্রান্ত রোগীদের চাহিদার কথা ভেবে ‘দুর্বার কান্ডারী ইমার্জেন্সী ভেন্টিলেটর’ প্রস্তুত করা হয়েছে। করোনা মহামারী এবং লকডাউনের সময় গঠিত হওয়া টিম ‘দুর্বার কান্ডারী রুয়েট’ এই ভেন্টিলেটরটি প্রস্তুত করেছে। এর সাথে যুক্ত রুয়েটের শিক্ষার্থীবৃন্দ দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে ইন্টারনেটের মাধ্যমে একত্র হয়ে এই ভেন্টিলেটর তৈরীর কাজ সম্পন্ন করেছেন এবং এই ভেন্টিলেটরটিকে আরোও উন্নত করার জন্য তারা দিনরাত পরিশ্রম করে যাচ্ছেন।”

সংবাদ সম্মেলনে রুয়েটের রেজিস্ট্রার (ভারপ্রাপ্ত) অধ্যাপক ড. মো. সেলিম হোসেন, পরিচালক পরিকল্পনা ও উন্নয়ন অধ্যাপক ড. মিয়া মো. জগলুল সাদত, পরিচালক গবেষণা ও সম্প্রসারণ অধ্যাপক ড. মো. ফারুক হোসেন, ইসিই বিভাগের বিভাগীয় প্রধান ড. মো. শামীম আনোয়ার, উপ-পরিচালক ছাত্রকল্যাণ মো. মামুনুর রশীদ ও আবু সাঈদ, রুয়েটের চীফ মেডিকেল অফিসার ডা. মো. মকসেদ আলী, ‘দুর্বার কান্ডারী’র সদস্য মো. রাফিউল ইসলাম (ইইই‘১৫), মো. মাহমুদুল হাসান (ইইই‘১৫), ওয়াসিফ আহমেদ (এমটিই‘১৬), রাফি রহমান (এমই‘১৫), মো. রফি উদ্দিন (এমই‘১৫) ও মো. মাশরুর সাকিব (সিএসই‘১৬) প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।

এএইচএস.


  • 384
    Shares