বকেয়া টাকা না দেয়ায় রাজশাহীতে চামড়া কেনায় অনিশ্চত

  • 25
    Shares

নিজস্ব প্রতিবেদক:

বছরের পর বছর পার হয়ে গেলেও বকেয়া পরিশোধ করছেন না ঢাকার ট্যানারি মালিকরা। বিভিন্ন ঈদ মৌসুমে চামড়া কেনার পর নানান অজুহাতে দিনের পর দিন পাওনা টাকা দিতে তারা ঘোরাচ্ছেন চামড়া ব্যবসায়ীদের। এই অবস্থায় চরম অর্থ সঙ্কটে পড়েছেন রাজশাহীর চামড়া ব্যবসায়ীরা। শনিবার (০১ আগস্ট) ঈদুল আযহা। কিন্তু এখন পর্যন্ত চামড়া কেনার টাকা জোগাড় করেত পারেননি স্থানীয় ব্যবসায়ীরা। এতে এবারের কোরবানির মৌসুমে চামড়া কেনা নিয়ে অনিশ্চয়তা দেখা দিয়েছে তাদের।
পুরনো ছবি

রাজশাহী জেলা চামড়া গ্রুপের নেতারা বলছেন, ঢাকার ট্যানারি মালিকদের কাছে বিগত বেশ কয়েক বছরের টাকা বকেয়া পড়ে আছে। তাদের কাছে পুঁজি যা কিছু অবশিষ্ট ছিল, তাও এই করোনাকালে ঘরে বসে খেয়ে শেষ। সব পুঁজি হারিয়ে রাজশাহীর চামড়া ব্যবসায়ীরা এখন পরিবার-পরিজন নিয়ে সংকটময় পরিস্থিতির মধ্যে দিয়ে দিনযাপন করছেন। এ অবস্থায় নতুন করে পুঁজির সংকুলান করা তাদের পক্ষে একেবারেই অসম্ভব।

রাজশাহী মহানগরের সপুরা এলাকার চামড়া ব্যবসায়ী আসলাম উদ্দিন বলেন, এক বছর নয়, পর পর তিন বছরের টাকা বকেয়া পড়েছে ঢাকার ট্যানারি মালিকদের কাছে। ২০১৭ সাল থেকে ঢাকার ট্যানারি মালিকদের কাছে চামড়ার বকেয়া টাকা পাবেন রাজশাহীর ব্যবসায়ীরা। ২০১৮ ও ২০১৯ সালে তারা টাকা পরিশোধের আশ্বাস দিয়েও করেনি। এক, দুই করে তিন বছরের বকেয়া পড়েছে।
একই কথা জানিয়ে মহানগরের নওদাপাড়া এলাকার চামড়া ব্যবসায়ী জাহিদুল আলম বলেন, এবার অর্থ সংকটে প্রকৃত ব্যবসায়ীরা চামড়া কিনতে পারবেন না এ কথা মোটামুটি নিশ্চিত। কিন্তু, তাই বলে দেশের জাতীয় সম্পদ নষ্ট করা যাবে না। যদি এমন পরিস্থিতিই শেষ পর্যন্ত তৈরি হয়, তাহলে যারা কোরবানি দিচ্ছেন তারাই চামড়া লবণজাত করে সংরক্ষণ করতে পারবেন। পরিস্থিতির উন্নতি হলে পরে সে চামড়া ভালো দামে বিক্রি করবেন। লবণ দিয়ে চামড়া দীর্ঘদিন রাখলেও পচবে না। ক্রেতা-বিক্রেতা পরে লাভবান হবেন।

এদিকে চামড়ার দাম গত বছরের তুলনায় ২৩ থেকে ২৯ শতাংশ পর্যন্ত কমিয়ে চলতি বছরের দাম নির্ধারণ করা হয়েছে। ঢাকায় লবণযুক্ত গরুর চামড়ার দাম প্রতি বর্গফুট ৩৫ থেকে ৪০ টাকা এবং ঢাকার বাইরে ২৮ থেকে ৩২ টাকা করা হয়েছে। এছাড়া সারাদেশে খাসির চামড়া ১৩ থেকে ১৫ টাকা ও বকরির চামড়ার দাম নির্ধারণ করা হয়েছে ১০ থেকে ১২ টাকা বর্গফুট। এবছর পশুর চামড়ার যে দাম নির্ধারণ করা হয়েছে তা নিয়েও হতাশা প্রকাশ করেছেন ব্যবসায়ীরা।

জেলায় প্রতি কোরবানির মৌসুমে ৭০ থেকে ৮০ হাজার পশু কোরবানি করা হয় জানিয়ে রাজশাহী চামড়া ব্যবসায়ী গ্রুপের সাধারণ সম্পাদক আবদুর রউফ বলেন, এবার পরিস্থিতি খুবই খারাপ। স্থানীয় চামড়া ব্যবসায়ীরা চরম আর্থিক সংকটে ভুগছেন। ট্যানারি মালিকদের কাছ থেকে কোনোভাবেই তারা বকেয়া টাকা আদায় করতে পারছেন না।

তিনি আরও বলেন, রাজশাহীর চামড়াগুলো নাটোরের ব্যবসায়ীদের মাধ্যমে ঢাকার ট্যানারি মালিকদের কাছে বিক্রি করা হয়। কেউ সরাসরিও ঢাকায় নিয়ে ট্যানারি মালিকদের কাছে চামড়া বিক্রি করেন। এখন তারা বলছেন, সবারই টাকা বকেয়া পড়ে আছে ঢাকা ট্যানারি মালিকদের কাছে। ঢাকা ট্যানারি মালিকরা এতদিন বিভিন্ন অৎুহাত দেখালেও এখন করোনার কথা বলছেন। করোনা পরিস্থিতির উন্নতি হলেই টাকা শোধ দিতে পারবেন বলছেন। তাই পুঁজি সংকটে থাকার কারণে প্রকৃত ব্যবসায়ীরা এ বছর চামড়া কিনতে পারবেন কিনা, তা নিয়ে সংশয় প্রকাশ করেন চামড়া ব্যবসায়ীদের এ নেতা।

এএইচএস.


  • 25
    Shares