ধর্ম মন্ত্রণালয়ে আলোচনায় মাদানী ও হারুন

  • 1
    Share

রাজলাইভ ডেস্ক:

ধর্ম প্রতিমন্ত্রী শেখ মো. আবদুল্লাহ মারা গেছেন দুই সপ্তাহ হয়ে গেল। ধর্ম মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বে কে আসবেন এ নিয়ে বাড়ছে কৌতূহল। ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগ থেকে মনোনীত কোনো সংসদ সদস্যকে এই দায়িত্ব দেওয়া হবে নাকি ১৪-দলীয় জোট থেকে কাউকে দায়িত্ব দেওয়া হবে-এ নিয়েও চলছে জল্পনা-কল্পনা। তবে সব আলোচনার ইতি ঘটাবেন আওয়ামী লীগ সভাপতি প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। মন্ত্রিপরিষদে কাউকে আনার এখতিয়ার একমাত্র প্রধানমন্ত্রীর।
রুহুল আমিন মাদানী ও বজলুল হক হারুন

জানা গেছে, ১৪-দলীয় জোট থেকে নয়, দেওয়া হবে ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগ থেকেই। আওয়ামী লীগ ও গণভবন সূত্রে জানা গেছে, ধর্ম মন্ত্রণালয়ে প্রধানমন্ত্রী পক্ষপাতিত্বের জায়গা থেকে কাউকে বসাবেন না। সূত্র বলছে, ধর্মীয় বিষয়ে জ্ঞান আছে, ধর্মপ্রাণ মানুষের সঙ্গে সম্পর্ক ভালো এমন একজনকেই এই দায়িত্বে বসানোর পরিকল্পনা প্রধানমন্ত্রীর।

এই পদটি শূন্য হওয়ার পর থেকেই ১৪ দল থেকেই কেউ কেউ দৌড়ঝাঁপ শুরু করে দিয়েছেন। যদিও প্রকাশ্যে এ বিষয়ে তারা কথা বলতে নারাজ। এ জোটের দুজন নেতার ভাষ্য, প্রধানমন্ত্রী ইতিপূর্বে মন্ত্রিসভায় ১৪ দলের কাউকে জায়গা না দেওয়ায় জোটের মধ্যে টানাপড়েন তৈরি হয়েছিল। ধর্ম মন্ত্রণালয়ে জোট থেকে কাউকে দিলে জোটের বোঝাপড়া আরেকটু বাড়বে। অন্যদিকে আওয়ামী লীগের দুই সংসদ সদস্যের নামও শোনা যাচ্ছে। তারা হলেন ময়মনসিংহ-৭ আসন থেকে নির্বাচিত হাফেজ রুহুল আমিন মাদানী ও ঝালকাঠি-১ আসনের বজলুল হক হারুন।

রুহুল আমিন মাদানী এই পর্যন্ত দুবার সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয়েছেন। প্রথম নির্বাচিত হন ১৯৯৬ সালে। বর্তমানে ধর্মবিষয়ক মন্ত্রণালয়সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটির সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। এ ছাড়া ময়মনসিংহ জেলা আওয়ামী লীগের সহ-সভাপতি হিসেবেও দায়িত্ব পালন করছেন তিনি।

বজলুল হক হারুন তিনবার সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয়েছেন। আওয়ামী লীগ নেতৃত্বাধীন সরকারের গত মেয়াদে তিনি ধর্মবিষয়ক মন্ত্রণালয়সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটির সভাপতির দায়িত্ব পালন করেছেন। বর্তমানে বাংলাদেশ সৌদি আরব সংসদীয় মৈত্রী গ্রুপের চেয়ারম্যানের দায়িত্ব পালন করছেন। এ ছাড়া ঝালকাঠি জেলা আওয়ামী লীগের সহ-সভাপতির দায়িত্বও পালন করছেন তিনি।

হাফেজ রুহুল আমিন মাদানী বলেন, কোনো মন্ত্রণালয়ে কাউকে দায়িত্ব দেওয়ার এখতিয়ার প্রধানমন্ত্রীর। তিনি যদি আমাকে যোগ্য মনে করেন তা হলে দেবেন না হলে দেবেন না। এখানে যাকেই দায়িত্ব দেওয়া হবে তার প্রতি ব্যক্তিগতভাবে আমি সম্মান প্রদর্শন করব। বজলুল হক হারুন বলেন, দায়িত্ব পাওয়া না পাওয়া নিয়ে ভাবছি না। সব সময় দলীয় প্রধানের কথা অনুযায়ী কাজ করেছি। তিনি আমাকে যেসব দায়িত্ব দিয়েছেন, সেগুলো যথাযথভাবে করার চেষ্টা করেছি। এখনো তা-ই করব।

আওয়ামী লীগের শীর্ষ নেতাদের ভাষ্য, বাংলাদেশে ধর্মকে কেন্দ্র করে একদল মানুষ রাজনীতি করে। আবার ধর্মপ্রাণ মানুষরা ধর্মকে কেন্দ্র করে সুন্দর চিন্তা করে। আমাদের দেশের প্রেক্ষাপটে এই মন্ত্রণালয় খুবই স্পর্শকাতর। তাই যোগ্য, পরীক্ষিত ও অভিজ্ঞতাসম্পন্ন একজনকে এখানে দায়িত্ব দেওয়া হবে। সবকিছু বিবেচনায় এনেই সিদ্ধান্ত নেবেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।

এএইচএস.


  • 1
    Share