চারুকলার প্রাচীরে শোভা পাচ্ছে বাংলার ঐতিহ্য (ভিডিও)


নিজস্ব প্রতিবেদক, রাবি:

রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের (রাবি) চারুকলা বিভাগের প্রাচীরে বিভিন্ন ধরনের ৫৬টি চিত্র এঁকেছে শিক্ষার্থীরা। চিত্রগুলোতে ফুঁটে উঠেছে গ্রাম বাংলার ঐতিহ্য। শুধু ঐতিহ্য নয়, ফুটে উঠেছে নির্যাতনের চিত্রও। পুরো প্রাচীরজুড়ে জয়নুল আবেদীসহ বিখ্যাত সব শিল্পীর আঁকা ছবিগুলোও এঁকেছে শিক্ষার্থীরা। মূলত বসন্ত বরণকে কেন্দ্র করে এমন চিত্র আঁকা হয়েছে।
রাবির চারুকলার দেয়ালে আঁকা হয়েছে এমন ৫৬টি ছবি

শিক্ষার্থীরা জানায়, চলতি বছরের গত ২৯ জানুয়ারি রাত ১০ টা থেকে শুরু করা হয় চিত্র অঙ্কনকে ঘিরে বিভিন্ন কাজ। প্রথমে পুরো প্রাচীর সাদা রং করা হয়। পরের দিন বিভিন্ন চিত্র অঙ্কন শুরু করা হয়। প্রাচীরের একেকটি ব্লকে একেকটি চিত্র অঙ্কন করা হয়। চিত্র অঙ্কনে শিক্ষার্থীরা গ্রুপে ভাগ হয়ে কাজ করেছে। একেকটি গ্রুপে তিন থেকে পাঁচজন শিক্ষার্থী কাজ করেছে বলে সংশ্লিষ্টরা জানায়।

চিত্রগুলোতে দেখা যায়, গাছের ডালে পাখি, স্বামী ঘুমিয়ে আছে- বৌ হাতপাখা দিয়ে বাতাস করছেন, একজন নারী ছাগল ছানা নিয়ে যাচ্ছে, এক নারী উষ্কখুস্ক চুলে, দুই নারী ধান বানছেন।

এছাড়া দুজন প্রহরী প্রহরায়, শাপলা ফুল হাতে এক নারীর সঙ্গে দুই বান্ধবী, নাকে নলক ও কপালে টিপ পরা এক নারী, বিভিন্ন নির্যাতনের চিত্র, হাতির সঙ্গে বাচ্চাদের দুষ্টামি, সঙ্গীত চর্চার বিভিন্ন সরঞ্জাম, পালকীতে করে নববধূকে নিয়ে যাওয়া, ঢাক ঢোল পেটানো, পাহাড়ি মেয়েদের ঝর্ণার পাশে বসে থাকা, নব বর-বধূ, মোটরসাইকেল চালককে কুকুরের তাড়া, দুর্ভিক্ষের ছবি, দুই নারীর মাছ ধরা, গরুর গাড়ির চাকায় ধাক্কা দেয়া, গরুর গাড়ির টাপরের মধ্যে নব বর-বধূকে নিয়ে যাওয়া, পুকুরে খাঁচায় মাছ ধরা।এছাড়া পরিবারের কয়েকজন লোকজনের চিত্র।  এক নারী নৌকায় চড়ে শাপলা-পদ্ম ফুল তুলছেন এমন চিত্র ফুটে উঠেছে।

চিত্র অঙ্কন করা শিক্ষার্থী সাদিয়া সাবা শুষ্মি বলেন, ডিপার্টেমেন্টের (বিভাগের) বড় ভাইয়ারা চেয়েছিলেন গত বছরই বসন্ত বরণে এমন চিত্র অঙ্কন করার। কিন্তু বিভিন্ন কারণে তা হয়ে উঠেনি। এবছর তা করা সম্ভব হয়েছে। শিক্ষার্থী নিপুন জানায়, এটা অনেকভালো লাগছে। চারুকলার প্রাচীরের দেওয়ালের চিত্রগুলো অনেক ভালো লাগছে।

দেখুন ভিডিও: 

রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় চারুকলার দেয়ালচিত্রের প্রথম পর্ব 🎨বসন্ত বরণের পূর্বপ্রস্তুতি

Geplaatst door Anisur Rahman Emon op Zaterdag 1 februari 2020

 

অন্যদিকে, চিত্র অঙ্কনের জন্য শিক্ষার্থীদের মধ্যে কেউ কেউ সকালে, আবার কেউ কেউ দুপুরে আসছে। এছাড়া কেউবা সন্ধ্যায় এসে রাতভর কাজ করেছেন। সবমিলে অনেক আনন্দ লাগছে বলে শিক্ষার্থীরা জানিয়েছে।

শিক্ষার্থীরা বলছেন, চারুকলায় চিত্র থাকবে না, এমনকি হয়? বিভিন্ন চিত্রই মনে করিয়ে দেবে চারুকলা বিভাগ এটি। ছবিগুলো অনেকটাই জীবন্ত মনে হচ্ছে। এখানে দেখে মনে হচ্ছে, ছবিই কথা বলে। শিক্ষার্থীরা অনেকটাই নিপুন হাতে চিত্রগুলো অঙ্কন করেছে।

এইচ/এ