ক্রাইস্টচার্চে মসজিদে হামলাকারীর প্যারোলবিহীন যাবজ্জীবন দণ্ড

  • 1
    Share

ডেস্ক:
নিউজিল্যান্ডের ক্রাইস্টচার্চে দু’টি মসজিদে বর্বরোচিত হামলার দায়ে অস্ট্রেলীয় নাগরিক ব্রেন্টন টারান্টকে প্যারোলবিহীন যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দিয়েছেন স্থানীয় আদালত। দেশটির ইতিহাসে প্যারোলবিহীন যাবজ্জীবন দণ্ড দেয়ার ঘটনা এটাই প্রথম।
ব্রেন্টন টারান্ট

আদালতের রায়ে বলা হয়েছে, মৃত্যুর আগ পর্যন্ত কোনোভাবেই জেল থেকে মুক্ত হতে পারবেন না তিনি। এছাড়া কোনো ধরনের প্যারোলে জামিন দেয়া হবে না তাকে।

রায়ের গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্টগুলো-

  • কোনোভাবেই জেল থেকে বের হতে পারবেন না ব্রেন্টন।
  • এমন রায়ের বিরুদ্ধে কোনো প্রতিবাদ জানাননি তিনি।
  • যদিও এর আগে ব্রেন্টন দাবি করেছিলেন তিনি বর্ণবাদী নন।
  • ব্রেন্টন বলেছিলেন, তার রাজনৈতিক ও সামাজিক দৃষ্টিভঙ্গি ততটা বাস্তব ছিল না।
  • তিনি নিজেকে সমাজ থেকে বিচ্ছিন্ন মনে করতেন এবং সমাজের ক্ষতি করতে চেয়েছিলেন।
  • মসজিদে হামলা যে সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড ছিল তা তিনি স্বীকার করেছেন।

এর আগে গত বছরের ১৫ মার্চ ক্রাইস্টচার্চের দু’টি মসজিদে হামলা চালিয়ে ৫১ জনকে হত্যা, ৪০ জনকে হত্যার চেষ্টা এবং সন্ত্রাসী হামলার একটি অভিযোগ স্বীকার করে নেন টারান্ট।

আদালত সূত্র জানিয়েছে, চলতি সপ্তাহে টানা চারদিন ধরে হামলায় বেঁচে যাওয়া ব্যক্তি ও ভুক্তভোগী পরিবারের কয়েক ডজন সদস্য আদালতের শুনানিতে অংশ নেন। তাদের সবাই হত্যাকারী টারান্টের সর্বোচ্চ শাস্তি দাবি করেন।

২০১৯ সালের ১৫ মার্চ নিউজিল্যান্ডের ক্রাইস্টচার্চ শহরের আল নুর ও লিনউড মসজিদে হামলা চালান ব্রেন্টন টারান্ট। মসজিদ দু’টিতে জুমার নামাজের সময় অস্ত্র দিয়ে নির্বিচারে গুলি করে হত্যাযজ্ঞ চালান তিনি। হামলার ঘটনা ফেসবুক লাইভে প্রচারও করেন।  ১৭ মিনিট ধরে ওই হামলার সরাসরি ভিডিও প্রচারিত হয়।

হামলার দিনে ফেসবুক লাইভে বেন্টন
হামলার সময় ফেসবুক লাইভে বেন্টন

মুসল্লিদের মৃত্যু নিশ্চিত না হওয়া পর্যন্ত একের পর এক গুলি ছুড়তে থাকেন শ্বেতাঙ্গ আধিপত্যবাদে বিশ্বাসী টারান্ট। এ হামলায় ৫১ জন নিহত ও ৪০ জন আহত হন। এমন নৃশংস হামলায় নিউজিল্যান্ডসহ হতবাক হয়ে যায় সারাবিশ্বের মানুষ।

এদিকে, গতকাল শুনানির তৃতীয় দিনে হামলাকারীকে নিউজিল্যান্ডের সবচেয়ে কঠোর সাজা প্যারোলে মুক্তির সুযোগ না রেখে আজীবন কারাদন্ড দিতে বিচারকের প্রতি অনুরোধ জানান নিহতদের পরিবারের সদস্যরা।

হামলায় অর্ধশতাধিক মানুষ মেরে ফেলার পরও শ্বেতাঙ্গ বর্ণবাদী ব্রেন্টন ট্যারেন্টের কোনো অনুশোচনা না থাকা এবং সাজা ঘোষণার শুনানিতে এক আহতের দিকে তাকিয়ে তাচ্ছিল্যের হাসি দিয়েছেন বলে মনে হওয়ার পর আহত ব্যক্তি ও নিহতদের পরিবারের পক্ষ থেকে এ অনুরোধ জানানো হয় বলে জানিয়েছে বার্তা সংস্থা রয়টার্স।

২০১৯ সালের ওই হামলায় ক্রাইস্টচার্চের আল নূর মসজিদে বন্দুকধারীর গুলিতে আহত মিরওয়াইজ ওয়াজিরি মঙ্গলবার যখন দেখেন ওই শ্বেতাঙ্গ শ্রেষ্ঠত্ববাদীর ‘চোখে কোনো অনুশোচনা, কোনো লজ্জা নেই’, তখন আদালতে দেওয়ার জন্য প্রস্তুত করা বিবৃতির বদলে সরাসরি বেন্টনকে উদ্দেশ্য করে কথা বলেন। বেন্টন কোনো কিছুর জন্যই অনুতপ্ত নন, ক্রাইস্টচার্চ হাইকোর্টে সাজা ঘোষণার শুনানির দ্বিতীয় দিনে বলেন ওয়াজিরি।

বেন্টনকে উদ্দেশ করে তিনি বলেন, আজ আপনাকে সন্ত্রাসী বলা হচ্ছে এবং আপনি বিশ্বের কাছে প্রমাণ করেছেন যে মুসলমানরা সন্ত্রাসী নয়। আমি নিউজিল্যান্ডের জনগণকে বলতে চাই, সন্ত্রাসীর কোনো ধর্ম থাকে না, জাতি বা বর্ণ থাকে না। পাবলিক গ্যালারিতে উপস্থিত অনেকেই এ সময় করতালি দিয়ে ওয়াজিরির বক্তব্যকে স্বাগত জানান।

অস্ট্রেলীয় এ শ্বেতাঙ্গ বর্ণবাদী ২০১৯ সালের মার্চে ক্রাইস্টচার্চে হামলার ঘটনাটি ফেইসবুকে সরাসরি সম্প্রচার করেছিলেন। তৃতীয় আরেকটি মসজিদে হামলা চালানোর পরিকল্পনার পাশাপাশি তিনি মসজিদগুলো পুড়িয়ে দিতে এবং ‘যত বেশি লোককে সম্ভব হত্যা করতে’ চেয়েছিলেন বলেও শুনানিতে জানানো হয়েছে।

এইচ.এ


  • 1
    Share