আসামিদের দাবি ‘চুরির উদ্দেশ্যে’ ইউএনও’র ওপর হামলা

  • 4
    Shares

নিজস্ব প্রতিবেদক:
দিনাজপুরের ঘোড়াঘাটে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ওয়াহিদা খানমের ওপর চুরির উদ্দেশ্যে হামলা করা হয়েছে। এ ঘটনায় প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে তিনজন জড়িত থাকার দায় স্বীকার করেছেন। তবে অধিকতর তদন্তের মাধ্যমে হামলার ঘটনার পৃথক কারণ উদঘাটনের চেষ্টা করা হচ্ছে।

শুক্রবার (৪ সেপ্টেম্বর) সন্ধ্যায় প্রেস ব্রিফিংয়ের মাধ্যমে এ কথা জানান র‌্যাব-১৩ এর অধিনায়ক রেজা আহমেদ ফেরদৌস। রংপুরে র‌্যাব-১৩ এর সদর দপ্তর কার্যালয়ে এই প্রেস ব্রিফিং করা হয়।

আসামি আসাদুল হকের উদ্ধৃতি দিয়ে র‌্যাব-১৩ এর অধিনায়ক জানান, ইউএনও ওয়াহিদা খানম ও তার বাবা মুক্তিযোদ্ধা ওমর আলী শেখের ওপর হামলার ঘটনায় মামলা হয়েছে। র‌্যাব শুরু থেকেই এ ঘটনায় ছায়া তদন্ত অব্যাহত রাখে। ঘটনার পরের দিন শুক্রবার ভোরে হিলির কালীগঞ্জ থেকে আসাদুলকে গ্রেফতার করা হয়।

পরে তার স্বীকারোক্তি অনুযায়ী দিনভর অভিযান চালিয়ে নবিরুল ও সান্টু কুমারকে গ্রেফতার করা হয়। প্রাথমিক স্বীকারোক্তিতে আসাদুল চুরির উদ্দেশ্যে ইউএনও ওয়াহিদা খানমের বাসায় যান বলে জানিয়েছেন। এদের মধ্যে নবিরুল ইউএনও ওয়াহিদা খানমের মাথায় আঘাত করেন।

তিনি বলেন, আসাদুলের ভাষ্য অনুযায়ী চুরির উদ্দেশ্যেই তারা ইউএনওর বাড়িতে প্রবেশ করে এবং বাধা প্রাপ্ত হওয়ায় এই হাতুড়িপেটার ঘটনা ঘটে। তবে আমরা আরও সময় নিয়ে গভীর তদন্ত করে এই ঘটনার মূল মোটিভ জানার চেষ্টা করছি।

এদিকে জিজ্ঞাসাবাদের পর সিসিটিভি ফুটেজে লাল গেঞ্জি পরিহিত ব্যক্তি হিসেবে আসাদুল নিজের বলে স্বীকার করে। তার বক্তব্য অনুযায়ী লাল গেঞ্জি উদ্ধার করা হয়। পরে তার দেওয়া তথ্য মতে অপর দুজন নবীরুল ও সান্টুকে গ্রেফতারে অভিযান চালাই। তারা ঘনঘন অবস্থান পরিবর্তন করলেও পরে তাদের গ্রেফতারে সক্ষম হই। এ ঘটনার মূল পরিকল্পনাকারী নবিরুল।

তিনি আরো বলেন, এখনও ছায়া তদন্ত চলছে। ঘটনার নেপথ্যে আরও কোনো কারণ আছে কি-না তা জানতে আরো সময় লাগবে। অভিযুক্তদের রিমান্ডে এনে জিজ্ঞাসাবাদ করা হবে। ঘোড়াঘাট উপজেলা যুবলীগের আহবায়ক জাহাঙ্গীর আলমসহ এ ঘটনায় ছয়জনকে আটক করা হয়।

তাদেরকে জিজ্ঞাসাবাদের পর তিনজনকে ছেড়ে দেয়া হয়েছে। এরা হলেন- ঘোড়াঘাট উপজেলা যুবলীগের আহ্বায়ক (বহিষ্কৃত) জাহাঙ্গীর আলম (৪২), শিংড়া ইউনিয়ন যুবলীগের সভাপতি দক্ষিণ দেবীপুর গ্রামের গোলাম মোস্তফা আদুর ছেলে মাসুদ রানা (৪০) ও নৈশপ্রহরী নাহিদ হোসেন পলাশ (৩৮)।

দায় স্বীকার করায় উপজেলা যুবলীগের সদস্য (বহিষ্কৃত) আসাদুল ইসলাম (৩৫),  চকবামুনিয়া বিশ্বনাথপুর এলাকার মৃত ফারাজ উদ্দিনের ছেলে রং মিস্ত্রি নবিরুল ইসলাম (৩৫) ও একই এলাকার খোকার ছেলে সান্টু চন্দ্র দাসকে (২৮) গ্রেফতার দেখানো হয়েছে।

প্রসঙ্গত, গত বুধবার (২ সেপ্টেম্বর) দিবাগত রাত ৩টার দিকে দুর্বৃত্তরা ঘোড়াঘাট উপজেলা পরিষদ চত্বরে ইউএনও ওয়াহিদা খানমের সরকারি বাসভবনে প্রবেশ করে। হত্যার উদ্দেশ্যে তারা ইউএনও ওয়াহিদা খানম ও তার বাবা ওমর আলী শেখকে কুপিয়ে ও হাতুড়ি দিয়ে আঘাত করে গুরুতর জখম করে। এ হামলার ঘটনায় ইউএনও ওয়াহিদা খানমের ভাই শেখ ফরিদ বাদী হয়ে বৃহস্পতিবার (৩ সেপ্টেম্বর) রাতে ঘোড়াঘাট থানায় মামলা করেন।

রাজলাইভ/এইচ.এ


  • 4
    Shares